“জীবন্ত মোনালিসা”

প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের সাথে সাথে বিশ্বর নানা পরিবর্তন হচ্ছে।ঠিক তেমনি অবাস্তব কাল্পনিক নানা চরিত্র বাস্তবে ভেসে উঠছে।এমনকি কথাও বলছে।কি অবাক হচ্ছেন।হ্যা,এমনটাই ঘটেছে মোনালিসার বেলায়।

চীনের তাদের প্রযুক্তির তালে তৈরি করেছে এনিমেটেড মোনালিসা।যা আগত ভিজিটরদের সাথে কথা বলবে এমনকি তাদেরকে সাড়া দেবে।বেইজিং এর প্লানিং এক্সিবিশন হলে এই মোনালিসাকে দেখা যাবে।শুধু মোনালিসা নয় লিউনার্দোর আরো নানা ছবিকে 3D টেকনলজির মাধমে জীবন্ত করা হয়েছে। এমনকি জিসু ও তাঁর ১২ জন সাহাবিকেও এখানে কথা বলতে ও খেতে দেখা যাবে।প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু ও ভিজিটর আসে এই ছবি গুলো দেখার জন্য।হয়তো দেখার ইচ্ছে হচ্ছে আপনার।হ্যা আপনিও চাইলেই দেখতে পারেন।তবে তার জন্য আপনাকে আমি চীনে যেতে বলবো না।এখানে ক্লিক করে আপনি ভিডিওটি দেখতে পারেন।

“কে এই মোনালিসা? ডঃলিলিয়া কি তাহলে ঠিকই বলেছেন?”

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির একটি জগত বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা।ধারনা করা হয় এটি মোনালিসার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়ার স্বরনে আকা হয়।অনেকে এই রহস্যময় নারীকে ফ্লোরেন্টাইনের বনিক গিউকান্ডর স্ত্রী লিসা গেরাদিনি বলে সনাক্ত করেছেন।লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ সালের মধ্যবর্তি কোন এক সময়ে পাইন কাঠের টুকরোতে ছবিটি আকেন।এটা এতটা প্রশংসিত হয়েছে যা অন্য কোন ছবি হয়নি।আর এর একমাত্র কারন মোনালিসার রহস্যময় হাসি যা জন্ম দিয়েছে বহু প্রশ্নের।লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সবচেয়ে প্রিয় ছবি ছিল মোনালিসা।তিনি সবসময় তার সাথে এই ছবিটি রাখতেন।মজার ব্যপার হল,ভিঞ্চি যখন কোন মডেলের ছবি আকতেন তখন তিনি সেই মডেল সম্পর্কে যাবতিয় তথ্য তার নোটবুকে তুলে রাখতেন।কিন্তু পরবর্তিতে তার নোটবুকে মোনালিসার মডেলের সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।তাহলে কে হয়েছিল মোনালিসার মডেল?

বেল ল্যাবের ডঃলিলিয়া শোয়ার্টজ এই প্রশ্নের জবাব দেন।তার মতে লিওনার্দো তার নিজেকেই একেছিলেন এই ছবিতে।তিনি তার বক্তব্য স্বাপেক্ষে যুক্তিও দেখিয়েছেন।ডঃলিলিয়া ভিঞ্চির সেলফ পোট্রেট ও মোনালিসার ছবি দুটিকে প্রথমে ডিজিটালে রুপান্তর করেন।এরপর কম্পিউটারের মাধ্যমে ভিঞ্চির ছবিটি উল্টিয়ে ঘুরিয়ে দেন এবং ছবি দুটিকে পরস্পর যুক্ত করেন।তিনি এতে লক্ষ্য করেছেন ছবি দুটির মুখের আকৃতি ও বৈশিষ্ট আশ্চর্য ভাবে মিলে গেছে।এর মানে ভিঞ্চি নিজেকে নারি হিসেবে কল্পনা করেছিলেন এই ছবিতে।কি অদ্ভুত তাই না?
তবে যত কিছুই হোক না কেন,এটা আসলেই একটা রহস্যময় ছবি।আর কিছু রহস্য উন্মোচনহীন থাকলেই হয়তো এর সৌন্দর্য আরো ভালো করে উপভোগ করা যায়।মোনালিসার ছবিটি ফ্রান্সের লুভ্র যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

সকলকে ধন্যবাদ।
মিজানুর রহমান
www.helenclub.webs.com

“আপনার বিবেককে একটু জাগিয়ে তুলুন”

আজ একটা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লিখব।বাংলাদেশে দেখা কোন পুরনো দৃশ্য আজ আবার নতুন করে আপনাদের সামনে তুলে ধরা আর বিবেককে একটু নাড়া দেবার জন্য আজ আমার এই লেখা।হয়তো ভাবতে পারেন কাদের নিয়ে লিখব?কে সেই দুইজন?তারা আর কেউ নয়,আপনার অতি পরিচিত এক শ্রেনির মানুষ।যারা প্রতিদিন আপনাকে তাদের তিনচাকার বাহনে করে পৌছিয়ে দেয় আপনার গন্তব্যে।হ্যা,আপনি ঠিক ধরেছে।তারা “রিকশাওয়ালা”।তবে আজ আমি যে দু’জন রিকশাওয়ালা নিয়ে বলব তারা আর দশ জনের মত নয়।এরা আমাদের মত স্বাভাবিক নয়।জীবিকার তাগিদে এদের এই পথ ধরতে হয়েছে।ভাবতে পারিনি এক দিনে এই রকম দুটি নির্মম বাস্তবের ঘটনা করুন চিত্র দেখতে হবে।

গতকাল সকালে পারিবারিক কাজে টাকা পাঠানোর জন্য কাকরাইলের এস.আলম পরিবহনে গিয়েছিলাম।টাকা পাঠিয়ে যখন ফিরছি তখন দুপুর ২.০০টা বাজে।আমার বাসা শাহজাহানপুর।তাই কাকরাইল থেকে শাহজাহানপুর আসার জন্য রিকশা খুজছিলাম।কিন্তু কোন রিক্সা যেতে চাচ্ছিল না।তবে এটা কোন নতুন ব্যপার না।কারন শাহজাহানপুর বা খিলগাও কোন রিক্সা সহজে আসতেও চায় না।অনেক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম।কোন রিক্সা ওয়ালা যেতে চাচ্ছে না।অনেক ক্লান্ত লাগছিল।হঠাত একটা রিক্সাওয়ালা আমাকে দূর থেকে ইশারায় ডাকল।আমি তার কাছে গিয়ে বললাম “শাহজাহানপুর যাবেন?”রিক্সাওয়ালা কিছুই বলল না,শুধু ইশারা করে বোঝালো সে বলতে ও শুনতে পারে না।আমার মন তখন ছলকে উঠলো।যে মানুষ বলতে ও শুনতে পারে না সে কি করে রিক্সা চালায়?আমি তাকে ইশারায় রাস্তা দেখিয়ে রিক্সায় উঠে পড়লাম আর তাকে লক্ষ্য করতে লাগলাম।সে কোন হর্ন শুনতে পায় না।বারবার পেছনে সামনে দেখে রিক্সাচালায়।আমি কাকরাইল থেকে থেকে শাহজাহানপুর আসার পথে তিনবার সে গাড়ির সাথে বারি খেয়েছে।এইটুকে সময়ে যে এতবার দুর্ঘটনা করতে গিয়ে বেচে গেছে সে রিক্সা কি করে চালায়।আমি তার বয়স লক্ষ্য করলাম।বয়স আনুমানিক ২৩-২৪ হবে।জীবনের ঝুকি নিয়ে সে কি করে রিক্সা চালায়?বারবার রাস্তার মোরে গিয়ে তাকে পথ দেখিয়ে দিতে হয়।কারন সে জানেনে আমি কোথায় যাব,শুধু বুঝতে পারে আমাকে তার পৌছে দিতে হবে।শাহজাহানপুর যখন আমি আসলাম তখন তাকে কিছু ভাড়া বেশি দেই।সে আমাকে ইশারায় বোঝায় আর কিছু টাকা বেশি দিতে।সকাল থেকে সে খায়নি।কেউ তার রিক্সায় উঠেনা।আমিই তার রিক্সায় প্রথম উঠেছি।আমার মনটায় মোচড় দিয়ে উঠল।আমি তাকে কিছু বলতে পারিনি।শুধু পকেটের অবশিস্ট টাকা গুলো দিয়ে দিতে পেরেছি।আর তার বিনিময়ে তার মুখে আমি যে সুখের ছাপ দেখেছি তা দিয়ে আমার বিবেককে আমি কিছুটা সান্তনা দিলামকিন্তু এভাবে সে কতদিন চলবে?যে রিক্সায় শুধু বসে থাকতে আমি ভয় পাচ্ছিলাম সে রিক্সা এই বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধি ব্যক্তি কি করে চালায়।কতদিন সে চালাতে পারবে।আমার বিবেককে এই প্রশ্ন বার বার আঘাত করছে।আমরা কি পারিনা এদের জন্য কিছু করতে?

বিকেল ৫.০০টা।একটা বিশেষ কাজে চকবাজার যাব।শাহজাহানপুর থেকে রিক্সা ঠিক করছি।কেউ যেতে চাচ্ছিল না।অনেক রিক্সার মাঝে একজন তার মুখটা গামছা দিয়ে ঢেকে রেখেছে।নাকের নিচ থেকে গলা পর্যন্ত পুরটা গামছে পেচানো।আমি তাকে চকবাজার যাবে কিনা তা জিজ্জেস করলাম।সে আমাকে অস্পস্ট ভাষায় কি যেন বলল।আমি বুঝলাম না,তাকে আবার জিজ্জেস করলাম।সে এবার তার গামছাটা সরাল কথা বলার জন্য।কিন্তু এরপর আমি যা দেখলাম তা যে কোন হরর ফিল্ম এর ভৌতিক কোন চরিত্রকে নির্দিধায় হার মানাবে।তার মুখের নিচের অংশটা মানে নাকের নিচের অংশটা নেই বললেই চলে।শুধু আছে বলতে কয়েকটা দাত যা নাকের নিচে লাগনো বলা চলে।মুখ বলতে কোন অংশ তার নেই।গলনালির অংশটা সুস্পস্ট।আমি দেখে থমকে গেলাম।সোজা ভাবে সে তাকাতে পারে না।বয়স খুব বেশি না।আনুমানিক ১৭-১৮ হবে।আমি তাকে চকবাজার যাবার কথা জিজ্জাসা করলে সে যেতে রাজি হয়।রিক্সায় উঠলাম।কিন্তু আমার মন তার রিক্সায় বসতে চাইছে না।বিবেক বলছে,এইরকম একজন মানুষ এত কষ্ট করবে আর আমি সেই আরাম উপভোগ করবো?লোকটির কথা বলতে অনেক কষ্ট হয়।বেশিরভাগ ইশারায় বুঝায়।সে শিশু একাডেমি পর্যন্ত গিয়েছিল।তারপর বলল সে আর পারছে না চালাতে।আমিও নেমে গেলাম পুরো ভাড়া দিয়ে।তাকে অনুমতি নিয়ে জিজ্জাসা করলাম কিভাবে হয়েছে এ রকম।কিন্তু সে যা বলল তার বেশির ভাগ আমি বুঝতে পারি নি।শুধু এতটুকু বুঝতে পেরেছি কোন কাজ করার সময় এসিড যাতিয় কিছু থেকে এ রকম হয়েছে।আমাকে নামিয়ে লোকটি রাস্তার পাশের চায়ের দোকান থেকে পানি খাচ্ছিল।সে পানি খাবার দৃশ্য যে দেখেছে সে তা কোন দিন ভুলতে পারবে না।আমার চোখ এই দৃশ্য সহ্য করতে পারছিল না।আমি ওখান থেকে চলে গেলাম।কিন্তু আমার বিবেক আমাকে মুক্তি দিচ্ছে না।

এই মানুষগুলোর ভবিষ্যত কি?কি হবে তাদের পরিনতি?এদের জন্য কি আমরা কিছুই করতে পারিনা?আমি পারিনি।কারন আমার সে ক্ষমতা নেই।কিন্তু কেউই কি পারে না?জীবিকার তাগিদে শুধু ঠিক মত অন্ন যোগাতে যে মানুষ গুলো তাদের জীবন মায়া ত্যাগ করে এই পথ বেছে নিয়েছে আমরা তাদের জন্য কি করতে পেরেছি?একবার সেইসব মানুষগুলোর দিকে ভালো করে চেয়ে দেখুন।তাহলে বুঝতে পারবেন তারা কি পরিমান অসহায়।আজ আমাদের দেশে বড় বড় মাল্টি স্টোরেড বিল্ডিং হচ্ছে।কিন্তু এইসব অসহায় প্রতিবন্ধিদের পাশে দারানোর মত কেউ নেই।প্রশ্ন রইল সমাজের উচু স্তরের সেই মানুষদের কাছে,কি করেছে তারা এইসব অসহায়ের জন্য?শুধু নিজের ভোগের জন্য ব্যয় করে কি লাভ?সরকার আমাদের জন্য ছায়া স্বরুপ।সরকার আমাদের অবশ্যই সাহায্য করবে।কিন্তু এই ছায়ার নিচের মানুষ গুলো একে অন্যর জন্য কি কিছুই করতে পারেনা?রাস্তায় যখন হাটবেন তখন একটাবার মুখতুলে আপনার আশে পাশে তাকিয়ে দেখুন,এ রকম হাজারো ঘটনা আপনার চোখে পরবে।একটাবার বিবেককে প্রশ্ন করুন আমরা কি করছি?হয়তোবা আমার এই কথাগুলো সমাজের সেই সব উচুস্তরের মানুষের কানে পৌছবে না।কিন্তু আপনাদের মাঝে কি কেউ নেই যে এই কথাগুলো তাদের কানে পৌছে দেবে?একটা বার চেষ্টা করে দেখুন।কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করুন।আপনার বিবেককে কাজে লাগান।তাকে আর ঘুম পাড়িয়ে রাখবেন না।তাকে জেগে তুলুন।

আমার এই লেখা যদি আপনাদের মাঝে একফোটা আলোড়ন তুলতে পারে তাহলেই আমার স্বার্থকতা।

সকলকে ধন্যবাদ।

মিজানুর রহমান।


 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Hot Sonakshi Sinha, Car Price in India